‘অস্ত্রত্যাগ’ নিয়ে হামাসের ভিন্নমত
গাজা যুদ্ধ শেষ করার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার মধ্যে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি। প্রাণহানির তীব্রতা এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার মধ্যে হামাসের দুই শাখা এখনো ‘একমত’ হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখা গাজার যুদ্ধে শেষ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের অংশ হিসেবে অস্ত্রত্যাগ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সম্মতিতে পৌঁছায়নি, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থকারী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হায়্যা ও গাজার বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকর্তা উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।
তবে গাজার হামাসের নেতা ইজ্জ আল-দিন হাদ্দাদ হামাসের আক্রমণাত্মক অস্ত্র যেমন রকেট প্রত্যর্পণ করতে রাজি হলেও, তারা গ্রুপের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অস্ত্র যেমন অ্যাসল্ট রাইফেল রাখতে চায়।
হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে ইসরাইল ও তার মিত্র পশ্চিমাদের চাওয়া পূরণ হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, হামাস গাজার প্রশাসনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো ভূমিকা রাখবে না এবং ধাপে ধাপে গাজা নিরস্ত্রীকরণের পথে যাবে।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের অন্যান্য সামরিক কমান্ডাররা সমঝোতার ক্ষেত্রে কম উন্মুক্ত। তারা মনে করেন, যেসব যুবককে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তারা নিয়োগ করেছে, তারা পরিবার ও ভূমি হারানোর পর তাদের অস্ত্র ছাড়তে রাজি নাও হতে পারে এবং ফলে অস্ত্রত্যাগ কার্যকর করা কঠিন হবে।
তবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাস নিজেদেরকে ফিলিস্তিনি জাতীয় কাঠামোর অংশ হিসেবে দাবি করেছে এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিবৃতিতে হামাস পরিকল্পনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও প্রশাসনিক কাঠামো ও নিজেদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে মতভেদ প্রকাশ করেছে।
হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি, ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহার, জিম্মি ও বন্দিদের বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের বিষয়গুলোতে সম্মত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রস্তাবিত সূত্র অনুযায়ী জীবিত ও মৃত ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে তারা প্রস্তুত। তবে এ প্রক্রিয়ায় ‘ক্ষেত্রীয় শর্ত’ পূরণের কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
হামাস জানিয়েছে, গাজার প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে আলোচনা একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী বা হামাসের সদস্যদের নিরাপদে দেশত্যাগের মতো প্রস্তাবগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সংগঠনটি।